আজ ২৭ জুলাই। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠন ‘বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ’-এর গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একই সাথে আজকের এই দিনটি আরও একটি বিশেষ কারণে তাৎপর্যপূর্ণ; আজ বাঙালি জাতির ক্ষণজন্মা পুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের শুভ জন্মদিন। দ্বৈত আনন্দের এই পবিত্র লগ্নে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান ও প্রাক্তন সকল নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী ও দূরদর্শী নির্দেশনায় জন্ম নিয়েছিল এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও মানবিক সংকটে, দুর্যোগে এবং আপামর জনগণের যেকোনো প্রয়োজনে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ানো। আজ তিন দশকেরও বেশি সময় পার করে সংগঠনটি তার সেই মূল লক্ষ্য ও আদর্শে অবিচল থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ মানবিক ও সামাজিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই সুদীর্ঘ পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। রাজপথের সংগ্রাম, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে সংগঠনের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ইতিহাসের পাতা উল্টালে আমরা দেখতে পাই এর সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক বিবর্তন ও ধারাবাহিক নেতৃত্ব বদলের ইতিহাস। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে সংগঠনটির প্রথম আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়, যা তৃণমূল পর্যায়ে এর ভিত্তি গড়ে তোলে।
পরবর্তীতে ২০০২ সালের প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে আ আ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সংগঠনটিকে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল রূপ দেন। ২০১২ সালের দ্বিতীয় কাউন্সিলে মোল্লা মো. আবু কাওছার সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথ পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনের পরিধি আরও বিস্তৃত করেন। ২০১৯ সালের তৃতীয় কাউন্সিলে নির্মল রঞ্জন গুহ ও এ. কে. এম. আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বাধীন কমিটি করোনাকালীন বৈশ্বিক মহামারির মহাসংকটে মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে ‘মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করে।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ-এর আকস্মিক প্রয়াণের পর এক সাংগঠনিক শূন্যতা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু। বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক এ. কে. এম. আফজালুর রহমান বাবুর এই কমিটি পূর্বসূরিদের দেখানো পথেই কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সুশৃঙ্খল ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে।
রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়, রাজনীতি মানে মানুষের সেবা এই দর্শনের সবচেয়ে বড় বাস্তবায়ন দেখিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। বন্যা, সাইক্লোন, কিংবা যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে কোনো একক ব্যক্তি বা পদের ওপর নির্ভর না করে, এই সংগঠনের সর্বস্তরের সাধারণ নেতাকর্মীরা সবসময় সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে তারা যেন চিরকাল টেকসই উন্নয়ন ও মানবিকতার এই ধারা অব্যাহত রাখে। সকল প্রকার অপরাজনীতি ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে, জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে, সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
সংগঠনটির জন্মদিনে আবারও বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভকামনা!
লেখা: তামজিদ কামরান
সাবেক সহ-সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জয়-লেখক), সাবেক সহ-সভাপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ (রুবেল-টিপু)
