রাবিতে গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে সালাউদ্দিন আম্মার ছাত্র শিবিরের নেতারা

অবশ্যই পরুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একটি ব্যক্তিগত অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাকসু নেতাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার এক ছাত্রী সহপাঠীর বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে বৈঠক হয়। সোমবার একই বিষয়ে আরেকটি বৈঠকে অভিযুক্ত পক্ষের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তোলা হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টর দপ্তরে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

এর কিছুক্ষণ পর রাকসু ভবনে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উভয় পক্ষ অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে কয়েকজন পাঠকক্ষে ঢুকে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল নামে তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন ছাত্র শিবির। বাধা দিতে গেলে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও আবার মারধরের চেষ্টা করা হয়।

হামলার শিকার শিক্ষার্থী আনাস দাবি করেন, তিনি ছাত্রলীগের কর্মী নন। অতীতে কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ছবি থাকলেও কখনো সংগঠনটির কর্মসূচিতে অংশ নেননি বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কেউ জড়িত ছিল না। রাকসুর নেতাদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারও দাবি করেন, তাদের নেতাদের ওপর হামলার পর তারা ঘটনাস্থলে যান।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, পুরো ঘটনাটি তদন্তে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ