বিয়ের প্রলোভন ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পাওয়ার একদিনের মাথায় আবারও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল-এর বিরুদ্ধে। মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা) বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
আদালত প্রাঙ্গণে অনন্যা তার বাম হাতের জখম ও কাটার দাগ দেখিয়ে দাবি করেন, জামিন পাওয়ার আগে নোবেল কান্নাকাটি করে আপসের আশ্বাস দেন। তবে জামিন পাওয়ার পর বাসায় নিয়ে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। তার ভাষ্য, মামলা করার ক্ষোভ থেকেই এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে নিজেকে অনুতপ্ত ও পরিস্থিতির শিকার হিসেবে উপস্থাপন করলেও ব্যক্তিগত জীবনে নোবেলের আচরণ ভিন্ন।
অনন্যার মা বিবি কুলসুম অভিযোগ করেন, মিষ্টি কথায় জামিন নেওয়ার পর এখন তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে অনন্যাকে মারধর করে অচেতন করে ফেলা হয়। এ বিষয়ে তাদের কাছে ভিডিও ও প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে এবং শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, তিন বছর আগে তাদের বিয়ে হলেও মেয়ের অপ্রাপ্তবয়স্কতার কারণে বিষয়টি তখন প্রকাশ করা হয়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম বলেন, বিয়ে করার শর্তে জামিনের বিরোধিতা না করায় আদালত আসামিকে মুক্তি দেন। কিন্তু জামিনের পর বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে জামিন বাতিলের আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং এক তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তার অভিযোগে গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করা হয়।
২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেন। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে নোবেল বলেন, তার দর্শক-শ্রোতারা তাকে বোঝেন এবং মানুষ ভুল করতেই পারে। এ সময় তিনি রোজা উপলক্ষে ‘খোদা তুমি বড় মেহেরবান’ গানের কয়েকটি লাইন গেয়ে শোনান। পরে মামলার বাদীর হাত ধরে আদালত ত্যাগ করেন।
তবে জামিনের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই নতুন করে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় মামলাটি ঘিরে আবারও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ন্যাশনিক্স/এপি
