রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার-কে হত্যার ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটে থাকা এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের একটি বাসার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে এবং শরীরের অংশ খাটের নিচে পাওয়া যায়।
রাত সোয়া ১০টার দিকে পল্লবী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা পাশের ফ্ল্যাটে সন্দেহ করেন। কারণ বাসার সামনে শিশুটির এক পাটি জুতা পড়ে ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সেটি খুললে স্বপ্না আক্তারকে পাওয়া যায়। তবে মূল সন্দেহভাজন সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া অপরাধ গোপন এবং মরদেহ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও ধারণা পুলিশের।
পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আরও বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগেও একটি মামলা রয়েছে। তার আচরণ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার দাবি করেছেন, তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না। তবে পুলিশ বলছে, দরজা না খোলা এবং সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
