ঢাকাই সিনেমার আলোচিত তারকা দম্পতি পরীমণি ও শরিফুল রাজের বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে এই সম্পর্ক ভাঙার পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষ জড়িত ছিল কি না তা নিয়ে ছিল কৌতূহল। অবশেষে এ বিষয়ে সরাসরি নিজের অবস্থান জানালেন পরীমণি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্যক্তিগত জীবন ও রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন এই চিত্রনায়িকা। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে তৃতীয় পক্ষের গুঞ্জনকে অস্বীকার করেন।
পরীমণির ভাষ্য, তাদের বিচ্ছেদের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি দায়ী নন। তিনি বলেন, বোঝাপড়ার অভাবই মূল কারণ। সংসার টিকিয়ে রাখতে যে দু’পক্ষেরই চেষ্টা ও সমর্থন প্রয়োজন এই বিষয়টি রাজ ঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে বিনোদন অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচলিত ধারণা নিয়েও কথা বলেন পরীমণি। তিনি জানান, তার কারণে রাজ নাকি সন্তানের খোঁজ নিতে পারছেন না এমন কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রাজের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথাও জানান এই অভিনেত্রী। পরীমণির মতে, রাজের উচিত নিজের দায়িত্ব নিজে থেকেই অনুভব করা এবং কোনো কিছু বলার অপেক্ষা না করে সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শরিফুল রাজ প্রথম প্রকাশ্যে জানান যে পরীমণি অন্তঃসত্ত্বা। একই সময়ে তারা তাদের বিয়ের বিষয়টিও নিশ্চিত করেন। দুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর পারিবারিক আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর ২০২২ সালের ১০ আগস্ট তাদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। যদিও একাধিকবার তারা আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে রাজের ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকজন চিত্রনায়িকার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং রাজ বাসা ছেড়ে চলে যান।
আলাদা হওয়ার পর দুজনই বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। সবশেষে ২০২৩ সালের শেষের দিকে তাদের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
