সাংবাদিকতার মুখোশ খুলে গেল! অলিউল্লাহ নোমান আসলে কে?

অবশ্যই পরুন

অলিউল্লাহ নোমান

পুরোনাম- আবু সাঈদ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ নোমান

জন্ম- হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা গ্রাম। 

পড়াশোনা- স্থানীয় মাদ্রাসা।

এরপর ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা থেকে পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ।

কিন্তু সবজায়গায় বলে বেড়ান ইটাখোলা ফাজিল মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে আলিম, ফাজিল ও কামিল (হাদিস ও আরবি সাহিত্য) ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে বিএসএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস সম্পন্ন করেন।

জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে নিয়ে  সম্পাদকীয় লেখার মূলহোতা এই নোমান। স্কাইপে কেলেংকারি নিয়ে নিউজ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান।ইউকেতে তার পৃষ্ঠপোষক ছিল এলায়েন্স অফ হিউম্যান রাইটস জিফেন্ডারস ইন দি ইউকের আহবায়ক ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতির ডেপুটি প্রেস সচিব শামসুল আলম লিটন।

আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান তুরস্কে নাগরিকত্ব নিয়ে অবস্থানকালে স্থায়ী নাগরিকত্বের আশায় নোমান চলে আসেন তুরস্কে। তুরস্কে ছাত্রশিবির ও জামায়াত নেটওয়ার্কে থেকে দেশবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে কর্মতৎপরতা চালিয়ে যান এই তথাকথিত সাংবাদিক নামধারী নোমান। মূলত, সাংবাদিকতার কাভারে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তুরস্কের নাগরিক মাহমুদুর রহমানের সঙ্গী হন নোমান। 

জুলাই ষড়যন্ত্রে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই ইস্তাম্বুল থেকে মাহমুদুর রহমানের সাথে বাংলাদেশে উড়ে আসেন তিনি। দেশে ফিরে সহযোগী হিসেবে পান পুরাতন দোসর ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মযহার কে। 

আমার দেশ নামক প্রপাগাণ্ডা মেশিন চালুর পর থেকেই একের পর এক গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলেন এই অলিউল্লাহ্ নোমান। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে নেতাকর্মীদের ভুয়া মামলায় আসামী করতে পুলিশকে চাপপ্রয়োগ করেন। মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে মবকে উস্কে দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালাতে উৎসাহিত করেন। আমার দেশ পত্রিকার জন্য মোটা অংকের বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয়ে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে অব্যাহত হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। 

অলিউল্লাহ্ নোমান সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রশিবিরের সহযোগিতায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সম্পৃক্ততার অযুহাতে বিসিএস উত্তীর্ণদের তালিকা করেন এবং আমার দেশ পত্রিকায় সিরিজ আকারে মিথ্যা ও চটকদার সংবাদ ছাপিয়ে দেন। সংবাদ ছাপিয়ে তিনি ক্ষান্ত হন নাই, প্রতিনিয়ত শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতাদের মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে তালিকা অনুযায়ী নবীন কর্মকর্তাদের চাকুরিচ্যুত করতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এ কাজে তাকে তৎকালীন জনপ্রশাসন সচিব মোখলেসুর রহমান সহযোগিতা করেন। মিথ্যা গোয়েন্দা রিপোর্টের ধুয়ো তুলে একে একে অসংখ্য কর্মরত নবীন কর্মকর্তাদের চাকুরি চলে যাওয়ার নেপথ্যের কারিগর এই নোমান ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বিনা অপরাধে শুধুমাত্র তার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এতগুলো মেধাবী কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার আজ দিশেহারা। সে স্থলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে ছাত্রশিবিরের তালিকাধারী নেতাকর্মীরা যোগদান করেছে। এভাবে পুরো প্রশাসন যন্ত্রকে বিদেশী প্রেসক্রিপশনে জামায়াতীকরণের নীলনকশার বাস্তবায়ন করে চলেছে অলিউল্লাহ নোমান ও মাহমুদুর রহমান গং। 

তার প্রমাণ নিজেই দিয়েছেন হঠাৎ করে হবিগঞ্জ – ৪ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে! সাংবাদিকতার আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকা নোমান হঠাৎ তার স্বরুপে অর্থাৎ জামায়াতের প্রার্থীতা ঘোষনায় জনমনে ব্যাপক বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

এছাড়া, প্রথম আলো-ডেইলী স্টারে আগুন দেয়ায় তার ইন্ধন আছে বলে বিভিন্ন সূত্র হতে জানা যায়। মাহমুদুর রহমানের নীলনকশা বাস্তবায়নের প্রধান অগ্রসৈনিক আগুন লাগার রাতেই আমার দেশ পত্রিকার সার্কুলেশন ১০ লাখ ছাপানোর আদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে দেখা যায়, পুরো দেশ প্রথম আলো-ডেইলী স্টারের পরিবর্তে প্রপাগাণ্ডা মেশিন আমার দেশ পত্রিকা ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। এই আকস্মিক ঘটনায় পাঠক সমাজ, নাগরিকবৃন্দ হতবাক হয় যান। 

অলিউল্লাহ নোমান বিভিন্ন ভুঁইফোঁড় সংগঠনের নামে নির্বাচনী জরিপ জামায়াতের পক্ষে ছাপিয়ে জনগনের চিন্তাকে বিভ্রান্ত করতে সদা তৎপর। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের চরিত্র হনন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মিথ্যা সংবাদ ছাপানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের মত ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটিয়ে চলেছেন সমালোচিত এই তথাকথিত সাংবাদিক।

নিজ ও দলের স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে বিএনপির ভেতর অনুপ্রবেশ করিয়েছেন আপন ছোট ভাই কে। ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ যিনি এই তথাকথিত সাংবাদিক নামধারী দেশদ্রোহী নোমানের আপন ছোট ভাই।

এভাবেই ধীরে ধীরে বিদেশী প্রেসক্রিপশনে একটি রাষ্ট্রকে অকার্যকর করতে অলিউল্লাহ নোমানের মত শঠেরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসন, সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে। জনমনে আজ প্রশ্ন জেগেছে, দীর্ঘ সংগ্রামে গড়ে ওঠা এই দেশে নোমান ও মাহমুদুর গং এর বিচার হবে কি?

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ