মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গত ১ মে থেকে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৪ মে সচিবালয়ে এই নিয়ে ব্রিফ ও দেয়।
এই অভিযানের এক উর্ধতন কর্মকর্তা আছেন যিনি জামায়াত ব্যাকগ্রাউন্ডের। এই অফিসার আওয়ামী লীগ আমলে এত পরিমাণ দুর্নীতি করেছে যা লিখে শেষ করা যাবেনা। আমেরিকায় অব্ধি সে জায়গা সম্পত্তি, সেকেন্ড হোম বানিয়ে রেখেছে। আর ইউনুস আমলে লাগামহীন করেছে। এখন ও করে যাচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযান রান করার আগে এই নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে একটা বিশেষ মিটিং হয়। সেই মিটিং থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটা ডাটা বেইজ নেয়। তারপর জেলায় জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ডাটা গুলো দিয়ে জানানো হয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এরেস্ট করে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দেওয়ার জন্য। যেহেতু মাদক দ্রব্য আইনে জামিন মঞ্জুর হয়না অনেক ক্ষেত্রেই!
মোঃ হাসান মারুফ
মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ১৮ তম বিসিএস।
চাকুরিতে যোগদানঃ ২৫ জানুয়ারী, ১৯৯৯।
স্থায়ী জেলাঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
একাডেমিকঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
পারিবারিক অবস্থানঃ পিতা- মাহতাবুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সদস্য। বর্তমান জামায়াতে ইসলামের এমপি নুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ।
ছাত্র রাজনীতিঃ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল এর রুমমেট ছিলেন এবং ছাত্রলীগের ছদ্মবেশে শিবিরের হয়ে গোপন তৎপরতায় সক্রিয় ছিলেন।
. ৫ আগস্ট, ২০২৪ সালের পর ভোল পাল্টে তৎকালীন জনপ্রশাসন সচিব মোখলেসুর রহমানকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে মহাপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কমিটির অফিসার নেতৃবৃন্দকে পুনর্বাসন করেন। জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের থেকে একে একে প্রত্যেক কে আকর্ষনীয় পদে পদায়িত করতে সমর্থ হন। বিদেশে প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন।
. বিগত ১৭ মাসে ছাত্রশিবির ও হিযবুত তাহরীর সক্রিয় প্রায় ১১০০+ সদস্যদের ডেসপাস রাইডার, অফিস সহায়ক, ওয়্যারলেস অপারেটর, সিপাহী থেকে শুরু করে সকল নিয়োগে সংশ্লিষ্ট জনবল নিয়োগ প্রদান করেন। পাশাপাশি গোপনে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়। নিজ অনুসারী অতিরিক্ত পরিচালক বদরুদ্দীন, উপপরিচালক রাজীব মিনা ও উপপরিচালক মেহেদী হাসানের সহায়তায় অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তিনি নিয়োগ কার্যক্রম, বাছাই ও অবৈধ লেনদেন সম্পাদন করেন।
. দৈনিক যুগান্তরে তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের ভয়ংকর কল রেকর্ড এবং আড়িপাতার বিষয়টি উঠে আসে কয়েক মাস আগে। এনটিএমসি কে ব্যবহার করে পাবলিক কল, ব্যক্তিগত কল আড়িপেতে এই সিন্ডিকেট জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের কাছে সরবরাহ করতো। এ কাজে তাকে সহায়তা করতো অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) বদরুদ্দিন ও উপপরিচালক মেহেদী হাসান। যুগান্তর পত্রিকার ছবি সংযুক্ত করেছি।
এই ভয়ংকর দুর্নীতিবাজ, সিন্ডিকেট প্রধান, জামায়াত পরিবারের সদস্য ভোল পাল্টানো কর্মকর্তা হাসান মারুফ বর্তমানে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে মূলত জামায়াতী ভাবধারার কর্মকর্তা কর্মচারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এবং পুরো দেশে মাদক সিন্ডিকেটের বলয় গড়ে তুলেছেন। তার দুর্নীতির সব ফাইল শীঘ্রই তুলে ধরবো। বর্তমানে সচিব পদের জন্য তদবির করতে দৌড়ঝাঁপ করে চলেছেন।
সচিব হতে এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটি দেখানোর জন্য এই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এর বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ দমনের জন্য বিশাল প্রজেক্ট রান করেছে। প্রত্যেক জেলার আওয়ামী লীগ এর নেতাদের নামে মাদক আইনে মামলা দিতে বলছে। একই সাথে NTMC এক্সেস এর সুবিধার কারণে আমাদের আওয়ামী লীগ এর নেতাকর্মীদের ফোন ট্যাপ করে যাচ্ছে। আর এই বিশেষ কাজে নজরদারি রাখতেছে তার নিয়ন্ত্রিত শিবিরের কিছু কর্মচারী।
আওয়ামী লীগ আমলে খুব ভালো ভালো জায়গায় পোস্টিং ছিল। কয়েকজন বড় আওয়ামী লীগ নেতার খুব আস্থাভাজন ও ছিলো। উনারাও বুঝে না এই মাল যে ৫ আগস্ট এর পরে এইভাবে বিট্রে নিবে! কারণ ওর জামায়াতের ব্যাকগ্রাউন্ড ৫ আগস্ট এর আগে কেউ খুব একটা জানতো না। কারণ সেসময় সরকারি যেকোনো দিবসে আওয়ামী লীগ এর চেয়ে বেশি আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতো!
এখন ডিসি হবার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের টার্গেট করে করে সার্ভাইল্যান্স চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: Leo Cypher
