আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্থপতি, সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং বরেণ্য ব্যক্তিত্ব আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মৃত্যুবার্ষিকী। কেবল একজন সফল অর্থমন্ত্রী হিসেবেই নয়, তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন তাঁর বহুমুখী প্রতিভা এবং দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে।
বরেণ্য এই মানুষটির জীবন ও সাফল্যের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক,
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার (১২ বার) জাতীয় বাজেট পেশ করার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এক নতুন উচ্চতায় আসীন হয় এবং তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে মধ্যম আয়ের দেশের পথে যাত্রা শুরু করে।
১৯৭১ সালে ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত থাকাকালীন তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।
একজন দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও তাঁর কর্মপরিধি ছিল বিস্তৃত। বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিটি জায়গায় তিনি সততা এবং পেশাদারিত্বের ছাপ রেখে গেছেন।
একজন প্রখর ধীসম্পন্ন লেখক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। ইতিহাস, রাজনীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে তাঁর লেখা অসংখ্য গ্রন্থ আমাদের জাতীয় অমূল্য সম্পদ।
সিলেটের কৃতি সন্তান হিসেবে হাওর রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর মমতা আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
আজকের এই দিনে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। দেশের প্রতিটি সংকট ও সাফল্যে তাঁর সুচিন্তিত পরামর্শ এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের স্মৃতিতে অমলিন থাকবে।
বিনম্র শ্রদ্ধা।
লেখক: শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
