অনিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা: দ্বীনি শিক্ষা নাকি অনিরাপদ ব্যবসায়িক কেন্দ্র?

অবশ্যই পরুন

বর্তমানে দেশের আনাচে-কানাচে, বিশেষ করে অলিগলিতে যেভাবে নামসর্বস্ব কওমি মাদ্রাসা গড়ে উঠছে, তা এখন আর কেবল শিক্ষার প্রসারে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি গভীর সামাজিক ও নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা এখন সময়ের দাবি।

১. জবাবদিহিতাহীন আধিক্য:

একটি সাধারণ স্কুল বা কোচিং সেন্টার খুলতে গেলেও নির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে পাড়া-মহল্লায় কওমি মাদ্রাসা খোলার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের প্রশাসনিক অনুমতি বা নীতিমালার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। যে কেউ চাইলেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। এই নিয়ন্ত্রনহীনতাই বিশৃঙ্খলার মূল কারণ।

২. কর্মসংস্থান বনাম মাদ্রাসা বাণিজ্য:

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দাওরায়ে হাদিস বা ইফতা সম্পন্ন করার পর যখন শিক্ষার্থীরা যথাযথ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না, তখন জীবনধারণের উপায় হিসেবে তারা মাদ্রাসা খুলে বসছেন। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে একে এক ধরণের ‘উদ্যোগ’ বা ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করা হয়েছে। যেখানে শিক্ষার মান বা নৈতিকতার চেয়ে ‘আয়’ অনেক সময় প্রধান হয়ে দাঁড়াছে।

৩. মহিলা মাদ্রাসা ও নিরাপত্তার চরম অভাব:

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো অলিগলিতে গড়ে ওঠা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানে:

কোনো প্রকার সিসিটিভি বা আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না।

শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চারিত্রিক শুদ্ধতা যাচাইয়ের কোনো পদ্ধতি নেই।

বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অন্ধকারের আড়ালে ঘটে যাচ্ছে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মতো লোমহর্ষক ঘটনা।

৪. আড়ালে ঘটা অপরাধ ও বিচারহীনতা:

যখন এসব তদারকিহীন প্রতিষ্ঠানে কোনো অনৈতিক কাজ বা অপরাধ ঘটে, তখন ‘ধর্মের সম্মান’ বা ‘প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি’ নষ্ট হওয়ার দোহাই দিয়ে অধিকাংশ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং দ্বীনি শিক্ষার আড়ালে নিজেদের বিকৃত লালসা পূরণ করছে।

ধর্মীয় শিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তার নামে এই অনিয়ন্ত্রিত অরাজকতা কাম্য নয়। প্রতিটি মাদ্রাসার জন্য সরকারি বা কেন্দ্রীয় বোর্ডের কঠোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা উচিত। বিশেষ করে মহিলা মাদ্রাসাগুলোতে নারী তদারককারী নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত অডিট করা এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আমাদের নীরবতা যেন এই লেবাসধারী অপরাধীদের আরও সাহসী করে না তোলে।

আসুন, অন্ধভাবে নয় বরং সচেতনভাবে দ্বীনি শিক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় সোচ্চার হই।

লেখক: মোঃ ছাদিকুর রহমান 

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, আনন্দমোহন কলেজ

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ