সরকার প্রধান ডঃ ইউনুস এখন বন্ধুহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ তাঁকে বিশ্বাস করতে পারছে না। না দেশের, না বিদেশের কেউ তাঁকে বিশ্বাস করতে পারছে। সম্পূর্ণ একটি বিশ্বাসহীনতার জায়গায় পৌঁছে গেছেন ডঃ ইউনুস।
দেশের কথা বলি, জামায়াত, বি এন পি, এমন কি ইউনূসের আশীর্বাদপুষ্ট এনসিপি কেউ তাঁর উপর আস্থা রাখতে পারছে না। যে ছাত্রের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে তিনি ক্ষমতায় বসেছেন সেই ছাত্রদের দুই উপদেষ্টাকেও তিনি ওসডি করে রেখেছেন। অর্থাৎ বিশ্বাস ভেঙে গেছে। তিন উপদেষ্টার আর এক উপদেষ্টাকে আগেই বাদ দিয়েছেন।
তাঁর নিজের হাতে গড়া কিংসপার্টি এনসিপি কেও আগের মতো কদর করছেন না, সময়ও দিচ্ছেন না। বিএনপিকে নির্বাচনের মূলা ঝুলিয়ে রেখেছেন। ও দিকে জামাতকে দিয়ে গণ ভোটের প্রস্তাব করিয়েছেন। ঐক্যমত কমিশন জানিয়েছেন নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে। অর্থাৎ বিএনপি এখানেও মার খেল। বিএনপি এবং জামায়াত উভয়ই ডঃ ইউনূসের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এরাও বিশ্বাস করতে পারছে না ডঃ ইউনুসকে।
এবার আসি বিদেশ প্রসঙ্গে। যে যুক্তরাষ্ট্রের আশীর্বাদ নিয়ে ডঃ ইউনুস ক্ষমতায় বসেছিলেন, সেই যুক্তরাষ্ট্রের অপছন্দের তালিকার প্রথমদিকে এখন ডঃ ইউনুস। তাঁকে আর মোটেই বিশ্বাস করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। এবারের জাতি সংঘের সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোন পর্যায়ের মন্ত্রী, সিনেট সদস্য, রিপাব্লিক্যান, ডেমোক্র্যাট কেউ তাঁর সাথে দেখা করেন নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে দেখা করার জন্য জোড় লবিং করেছেন, অর্থ খরচ করেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের সাথেও দেখা হয় নি তাঁর।
ইতালিতেও তিনি একপ্রকার লজ্জাস্কর পরিস্থিতির ভেতর দিয়েই গিয়েছেন। সেখানে শুধু রোমের মেয়রের সাথে দেখা করেন। তাও মেয়রের অফিসে গিয়ে। একজন সরকার প্রধান হয়ে একটি শহরের মেয়রের অফিসে যাওয়া লজ্জার এবং অপমানের। ইতালির প্রধানমন্ত্রী দেশে থাকা সত্ত্বেও ডঃ ইউনূসের সাথে দেখা করার প্রয়োজন বোধ করেন নি। এমনকি ইতালির সরকারি বা বিরোধী দলের কেউ তাঁর সাথে দেখা করেন নি।
সর্বশেষ চপেটাঘাত খেলেন সৌদি আরবের কাছে। ডঃ ইউনূসের রাষ্ট্রীয় সফর ঘোষণা হওয়ার পর সৌদি সরকার তা বাতিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের শেষ পেরেকটি পড়েছে চীনের কাছে থেকে বিশটি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির পর। পনের হাজার কোটি টাকার এই চুক্তি আদৌ কোন অনির্বাচিত সরকার করতে পারে কি না তা নিয়ে ভবিষ্যতে অবশ্যই প্রশ্ন উঠবে। হয়তো কোন বড় অর্থ কেলেঙ্কারিও বেরিয়ে আসতে পারে। সে যাই হোক, চীনের কাছে থেকে এই যুদ্ধ বিমান কেনার চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ভীষণ নাখোশ হয়েছে এই অন্তবর্তনকালীন সরকারের উপর। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র দূত এই বিষয়ে কড়া একটি বার্তাও দিয়েছেন এই অন্তবর্তনকালীন সরকারকে।
ভারতের সাথে শুরু থেকেই সম্পর্কের টানাপোড়ন চলছে। ভারতের সাথে সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছে যায় সম্প্রতি যখন পাকিস্তানী জেনারেলকে বৃহৎ বাংলাদেশের ম্যাপ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য যে ওই ম্যাপে ভারতের আসাম ত্রিপুরা সহ কিছু রাজ্য দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের ম্যাপে অন্তর্ভুক্ত। ভীষণ চটেছে ভারত অনুমান করা যায়।
সর্বশেষ চীনের সাথে তিস্তা চুক্তিও দুই মাসের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে অন্তবর্তী সরকার। সৌদি আরবের শ্রম বাজার ঝুলে আছে। আরব আমিরাত শ্রম বাজার বন্ধ করে দিয়েছে।
সম্প্রতি সি আই এ চিফ তুলসী গ্যাবার্ড সারা বিশ্বের সরকার বদলের যে তথ্য ফাঁস করলেন তাতে এই অন্তবর্তী সরকার বিব্রত।
ডঃ ইউনূসের বিদেশী বন্ধুরাদেরও কেউ আর পাত্তা দিচ্ছেন তা তাঁকে। আন্তর্জাতিকভাবে অবিশ্বাস, অশ্রদ্ধা এবং অসম্মানের প্রতীক হয়ে উঠেছেন ডঃ ইউনুস।
আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়।
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অনির্বান উজ্জ্বল।
