জাতীয় নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন তালিকা বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ভারসাম্যহীনতা লক্ষ্য করা যায়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তাদের ২৩৭টি আসনের প্রাথমিক তালিকায় মাত্র ৪ জন সংখ্যালঘু বা আদিবাসী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায় থেকে ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩) ও নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-২), এবং আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে ছিলেন দিপেন দেওয়ান (রাঙ্গামাটি) ও সাচিং প্রু (বান্দরবান)।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির সীমাবদ্ধতাকেই নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিছু ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে ছিল। দলটি সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ২০ জন সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই ১৮ জনের মধ্যে ১২ জন বিজয়ী হন, যার মধ্যে ৯ জন ধর্মীয় সংখ্যালঘু (রণজিত চন্দ্র সরকার, রমেশ চন্দ্র সেন, সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে, সাধন চন্দ্র মজুমদার, সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বীরেন শিকদার, ননী গোপাল মণ্ডল, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও প্রাণ গোপাল দত্ত) এবং ৩ জন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধি (কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, দীপঙ্কর তালুকদার, বীর বাহাদুর উ শৈ সিং) ছিলেন। এছাড়া, জয়া সেনগুপ্তা ও পঙ্কজ নাথ স্বতন্ত্রভাবে বিজয়ী হয়ে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বকে আরও শক্তিশালী করেন।
বস্তুত, এই চিত্রটি স্পষ্ট করে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মূল উদ্যোগ এবং বাস্তব ফলাফল এখনো কার্যত আওয়ামী লীগের হাতেই কেন্দ্রীভূত।
লেখা: সাবেক সহ-সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও সহ-সভাপতি ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ
সহ-সভাপতি ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ
