বাংলাদেশ থেকে কেউ কোথাও যাবেনা, সবাই বাংলাদেশে আসবে

অবশ্যই পরুন

৫ আগস্ট পরবর্তী সংকটে সুদূর ইউরোপ থেকে, উড়ে এসে ক্ষমতার আসনজুড়ে বসে ড. ইউনুস দিয়েছেন একের পর এক আশ্বাস। তারমধ্যে সম্ভবত অন্যতম, “বাংলাদেশ কোথাও যাবেনা, সবাই বাংলাদেশে আসবে।” নোবেল বিজয়ী আন্তর্জাতিক ক্ষ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক বলে কথা, অবিশ্বাস তো করা যায় না, তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টোটাই ঘটছে। বাংলাদেশে কেউ তো আসছেই না, বরং আমাদের পৃথিবীটা দিন কে দিন ছোট হয়ে আসছে, ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে ভিসা। যার সবশেষ আরেকটি হলো ডেনমার্ক।
গত পাঁচ-ছয় বছরে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছিলো নর্ডিক এই দেশটি, কিন্তু মাত্র কিছুদিন আগে ডেনিস প্রধানমন্ত্রী ম্যাটে ফ্রেডরিকসনের এক মন্তব্যের পর এটা অনেকটায় নিশ্চিৎ, অফিসিয়ালি না হলেও নন অফিসিয়ালি ডেনমার্কে বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যাওয়ার পথ।
১৩ই সেপ্টেম্বর ডেনিস প্রধান মন্ত্রী বলেন,
” মাত্র ছয় বছর আগেও রসকিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ছিলো কেবল নয়জন, আর এখন প্রতিছয়জনে একজর বাংলাদেশি। তারা কি এখানে পড়তে আসছে? অবশ্যই না, তারা সুযোগের অপব্যবহার করছে, এবং আমরা অতি অবশ্যই এটা বন্ধ করবো।”
একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর নিশ্চিতভাবে বলা যায় কি ঘটতে যাচ্ছে ভবিষ্যতে। এটা সত্যি অনেক বাংলাদেশী স্টুডেন্টভিসায় ডেনমার্কে গিয়ে পড়াশোনা শেষ না করেই অন্যদেশে পালিয়ে যায় নয়তো অন্যকোনও উপায়ে ডেনমার্কে সেটল হওয়ার চেষ্টা করে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ডেনমার্কে যে কারণে বাংলাদেশীরা সমালোচিত, সেই একই কান্ড কিন্তু নেপালী, পাকিস্তানি এবং ভারতীয়রাও জড়িত, কিন্তু দোষ পুরোটাই এখন বাংলাদেশীদের কাঁধে।

এখন নোবেলপূজারীরা তেড়ে আসতে পারেন, প্রশ্ন করতে পারেন এতে এই সরকারের দোষ কথায়? উত্তরটা খুব সহজ, সামনেই ডেনমার্কের নির্বাচন, ইউরোপের এন্টি ইমিগ্রেন্ট মুভমেন্টের হাওয়া এখন সেখানেও লেগেছে, তাই দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো নেমে পড়েছে এই হাওয়া কাজে লাগিয়ে ভোট ব্যাংক বাড়াতে। সেক্ষেত্রে এই মূহুর্তে যেই দেশের কূটনৈতিক অবস্থা বেশ নাজুক দেশকেই টার্গেট করা সহজ। সত্য হচ্ছে ৫ আগস্ট পরবর্তী আমাদের কূটনৈতিক গন্তব্য কমে এখন ইউরোপিয়ান দেশগুলির মেয়র অফিস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। যার মাসুল দিচ্ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

এতো গেলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ব্যার্থতা, কিন্তু প্রশ্ন হলো হঠাৎ ডেনিস প্রশাসন বাংলাদেশিদেরকেই কেন বেছে নিলো। এর ক্রেডিট অবশ্য দিতে হবে ডেনমার্কে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি জুলাই রেমিটেন্সযোদ্ধাদের। তাদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। যেই দেশে জনসংখ্যা মাত্র পঞ্চাশ লাখ, যেখানে মানুষ রাত আটটার পর ঘরের ভিতরেও ফিসফিস করে কথা বলে যাতে অন্য কারও অসুবিধা না হয়, সেখানে জুলাই থেকে আগস্ট প্রতিদিন লালবিপ্লবীরা মিছিল করেছে, প্রতিবাদ করেছে মাইক বাজিয়ে। আবার ৫ আগস্ট পরবর্তী বিজয় উৎসব করেছে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। একদল লোক তো সমুদ্রসৈকতে গিয়ে মিষ্টি বিলিয়েছে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। এবং ডেনিস প্রশাসন একে বাংলাদেশিদের দৌরাত্ম্য হিসেবেই দেখছে, কেননা কিছুদিন আগে নেপালেও এমন একটা আন্দোলন হলেও ডেনমার্কে বসবাসকারী নেপালিদের দেখা যায় নি রাস্তায় রাস্তায় মিছিল সমাবেশ করতে। আর বাংলাদেশিদের একটি অংশের এমন আচরণ আর সরকারের ব্যার্থ কূটনীতির কারণে আজ বন্ধ হতে চলেছে স্ক্যান্ডিভিনিয়ান এই দেশের পথ। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশীদের জন্য পৃথিবীটা ছোট হতেই থাকবে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ