আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো রাস্তায় নামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে। এটি ছিল তৎকালীন বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের দুর্নীতি, অন্যায়, অপশাসন ও নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন যা পরবর্তীতে “লগি-বৈঠা আন্দোলন” নামে পরিচিতি পায়।
সেই সময়ে দেশে চলছিল এক গভীর রাজনৈতিক সংকট। বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে একপক্ষীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের মদদে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে বন্দি করার চেষ্টা চলছিল। এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার আহ্বানে মাঠে নামে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সকালে রাজধানীর পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আয়োজন করে। হাতে ছিল দেশের সংগ্রামী ঐতিহ্যের প্রতীক “লগি” ও “বৈঠা” যা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সরকারের আশ্রয়ে থাকা বিএনপি–জামায়াতপন্থী সন্ত্রাসীরা ওই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালায়, ফলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নেতাকর্মী আহত হন, কয়েকজন নিহত হন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সেদিনই স্পষ্ট বার্তা দেন “গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে জনগণের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।” তার সেই আহ্বানেই পরবর্তীতে সারাদেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়, মানুষ একত্রিত হয় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে।
লগি-বৈঠা আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে জনগণের ঐক্য গড়ে তোলে, যার ফলেই দেশে মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম হয়। বিশ্লেষকরা বলেন, শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে গণতন্ত্র রক্ষার সেই আন্দোলনই বাংলাদেশে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি স্থাপন করে।
ন্যাশনিক্স/একেএ
