পুরুষদের যৌন শক্তি বা লিবিডো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে পারে, তবে এটি শুধু বয়সের কারণে নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারার নানা কারণে যৌন শক্তি হ্রাস পেতে পারে। এটি শুধু যৌন জীবনে প্রভাব ফেলে না, বরং দৈনন্দিন জীবন, আত্মবিশ্বাস এবং সম্পর্ককেও প্রভাবিত করে।
পুরুষদের প্রধান যৌন হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। যদি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাস পায়, যৌন আগ্রহ কমে যায় এবং অনেক সময় যৌন ক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোনের মাত্রা খুব কমে গেলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করা যেতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা সম্পর্কের সমস্যা যৌন শক্তি হ্রাসের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মানসিক চাপের কারণে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এছাড়া বিষণ্নতা বা অন্য মানসিক অসুস্থতাও যৌন আগ্রহ কমাতে পারে।
যথেষ্ট ও গভীর ঘুম না হলে শরীরের পুনর্জীবন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন কমে যায় এবং যৌন শক্তি হ্রাস পেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
অস্বাস্থ্যকর জীবনধারাও যৌন শক্তি কমানোর একটি বড় কারণ। অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান যৌন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং যৌন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। পুষ্টিহীন খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি, যৌন শক্তি হ্রাস করতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম টেস্টোস্টেরন বাড়াতে সাহায্য করে, তবে অতিরিক্ত ব্যায়ামও ক্ষতিকর হতে পারে।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা এবং থাইরয়েডের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার কারণে যৌন শক্তি হ্রাস পেতে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও যৌন আগ্রহ কমাতে পারে।
পুরুষদের যৌন শক্তি হ্রাসকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মনে করা যায়, তবে সঠিক জীবনধারা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকাংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, মানসিক চাপ কমানো এবং ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার এই সমস্যার মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
