আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনার পর এবার পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে আফগান তালেবান সরকার। আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে এই হামলায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দাবি, সীমান্ত এলাকায় আফগান পক্ষ থেকে আসা চারটি সাধারণ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের উসকানির জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এরপরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়। কয়েক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর সীমান্ত পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে।
আফগান তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের ওই হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, হামলায় বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাবুল এই ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, তাদের লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানের পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে অবস্থান নেওয়া জঙ্গিদের ঘাঁটি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি, অভিযানে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের প্রাণহানির দাবিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আশ্রয় পাচ্ছে। তালেবান সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বরং দাবি করে, পাকিস্তান বারবার আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরজুড়েই সীমান্তে একাধিক সংঘর্ষ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাকে ঘিরে আবারও আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
