শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এগিয়ে দীপু মনি: কোন পথে হাঁটছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা?

অবশ্যই পরুন

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের অগ্রগতি ও নীতিনির্ধারণে শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা সবসময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক তুলনামূলক আলোচনা শুরু হয়েছে। বৈচিত্র্যময় উচ্চশিক্ষা ও আধুনিক দূরদর্শিতার দিক থেকে ডা. দীপু মনি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশ।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার ব্যবধান:

শিক্ষাগত যোগ্যতার ডিগ্রীর সংখ্যা এবং বৈচিত্র্যের দিক থেকে ডা. দীপু মনি দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে (MPH) স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। চিকিৎসা, আইন ও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানের এই পড়াশোনা তাঁকে এক অনন্য দূরদর্শিতা ও নীতিনির্ধারণী দক্ষতা দিয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের রসায়নে স্নাতক, যুক্তরাষ্ট্রের এনআইআইটি থেকে এমবিএ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রী থাকলেও, কর্মক্ষেত্রে আধুনিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডা. দীপু মনির বহুমুখী ব্যাকগ্রাউন্ডের তুলনায় তাকে অনেকটাই প্রথাগত মনে করা হচ্ছে।

করোনাকালীন দূরদর্শিতা ও নতুন কারিকুলাম: দীপু মনির আধুনিক পদক্ষেপ:

ডা. দীপু মনির কার্যকালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল করোনা মহামারী। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও জীবনের দুর্দশার কথা চিন্তা করে তিনি অত্যন্ত সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রাখলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সচল রাখতে তিনি দেশে প্রথম ব্যাপকভাবে বিকল্প ধারায় অনলাইন ও দূরশিক্ষণ (অনলাইন ক্লাস) কার্যক্রম চালু করেন।

শুধু তাই নয়, উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে মুখস্থ বিদ্যার বৃত্ত থেকে বের করে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও দক্ষ করে তুলতে তিনি নতুন শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) প্রণয়ন করেছিলেন। বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যাতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পায়, সেই লক্ষ্যেই তাঁর এই আধুনিক পদক্ষেপ ছিল।

বন্যা ও বর্তমান সংকট: মিলনের গতানুগতিক ধারায় ফেরার বিতর্ক:

এর বিপরীতে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষানীতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। দেশের বর্তমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম জোরপূর্বক চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি হারিয়ে দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে মানবিক ও বিকল্প ব্যবস্থা না ভেবে পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়াকে অনেকেই অবাস্তব ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।

অভিভাবকদের মতে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী উন্নত বিশ্বের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তাল মেলানোর পরিবর্তে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আবার সেই পুরনো ও গতানুগতিক ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক মানদণ্ড থেকে আরও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত:

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সফল শিক্ষামন্ত্রীর মূল দক্ষতা কেবল প্রথাগত ডিগ্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সংকটে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আধুনিক পলিসি তৈরি করার মধ্যেই তা প্রকাশ পায়। এই জায়গায় ডা. দীপু মনি তাঁর করোনাকালীন অনলাইন রূপান্তর ও নতুন কারিকুলামের মাধ্যমে যে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছিলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বন্যা পরিস্থিতির মাঝে পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রথাগত শিক্ষানীতির কারণে তা ম্লান হতে বসেছে। দেশের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে হলে গতানুগতিক মানসিকতা পরিহার করে বৈশ্বিক ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটানো জরুরি।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ