এনসিপির পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে হোটেলে ১১.৯৩ লাখ টাকা বকেয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

অবশ্যই পরুন

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে অবস্থানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বকেয়া ভাড়া, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং হোটেল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে দলটির শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এনসিপির পাঁচ নেতা—ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ—২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ ব্যবহার করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় আরও কয়েক ডজন নেতা নিয়মিত সেখানে যাতায়াত ও রাত্রিযাপন করতেন।

হোটেলের দাবি, দুটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা করে। বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। ফলে মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা।

হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, অবস্থানকালে সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলোতে নারীদের অবাধ যাতায়াত ছিল এবং সেখানে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পাওনা টাকা চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

হোটেলের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল বলেন, শুরুতে অগ্রিম অর্থ দিলেও পরে বহুবার তাগাদা দেওয়ার পরও বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, হোটেলে অবস্থানকারীরা প্রায়ই অতিথিদের নিয়ে আসতেন এবং নারীদের প্রবেশে আপত্তি জানানো হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে তারা হোটেল ছেড়ে চলে গেলে কর্তৃপক্ষ তালা ভেঙে কক্ষ দুটি পুনরায় ভাড়া দেয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে তাদের থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বকেয়া পরিশোধ না করেই তারা চলে যান। এ ঘটনায় এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, বকেয়া আদায় না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, হোটেলের ভাড়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। নারীদের নিয়ে হোটেলে অবস্থানের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন এবং বিষয়টি যাচাই করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৩ সালের পুরোনো ঘটনা।

সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মির্জা বলেন, হোটেলের দুটি কক্ষে কয়েকজন অবস্থান করতেন, তবে ভাড়ার বিষয়টি তার জানা নেই। আন্দোলনের সময় তিনি কয়েকবার সেখানে গিয়েছিলেন এবং রাত হয়ে যাওয়ায় অনেকে অবস্থান করতেন বলে জানান।

অন্যদিকে শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কক্ষ দুটি তার নামে বুকিং করা হয়নি এবং ভাড়ার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং কখনো কখনো একাধিক ব্যক্তি একই কক্ষে থেকেছেন বলে স্বীকার করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান সমন্বয়কারী মিরাসাত হোসেন হিমেল অভিযোগের বিষয়ে বলেন, তার ওই হোটেলে যাওয়ার কথা মনে নেই এবং অভিযোগকারী সম্পর্কে জানতে চান।

এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অভিযোগটি সংগঠনের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে রয়েছে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ