আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর সাম্প্রতিক কঠোর ও বিতর্কিত বক্তব্যকে ঘিরে। ইরানকে লক্ষ্য করে তার “একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে” ধরনের হুমকি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অনেকেই এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো শক্ত প্রতিক্রিয়া এখনো সামনে আসেনি যা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাম্রাজ্যবাদ, আগ্রাসন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবসময়ই ছিলেন আপসহীন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু বৈশ্বিক সংকটে স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে। তার কূটনৈতিক বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে শান্তি, মানবাধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন; নিপীড়িত মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ছিল তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নেতৃত্বের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষ করে তারেক রহমান কে ঘিরে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তার নীরবতা সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এমন একটি স্পর্শকাতর বৈশ্বিক সংকটে নিরব থাকা কেবল কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা নেতৃত্বের দুর্বলতা ও অদূরদর্শিতার ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, চীন, রাশিয়া ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ মার্কিন আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, অথচ মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছ থেকেও একটি সুস্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল। এই মন্তব্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অবস্থানকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
সম্পাদকীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অতীতে যেখানে বাংলাদেশ মানবিক ও নৈতিক প্রশ্নে দৃঢ় কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীরবতা এক ধরনের কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা যাকে অনেকেই কাপুরুষোচিত অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
এর বিপরীতে, শেখ হাসিনার সময়কার বলিষ্ঠ ও সাহসী অবস্থান আজও একটি তুলনামূলক মানদণ্ড হিসেবে সামনে আসে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে এতে সন্দেহ নেই। তবে সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান কেবল একটি কূটনৈতিক বিবৃতি নয়; এটি দেশের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ, নৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক পরিচয়ের প্রতিফলন। অতীতের দৃঢ়তা ও বর্তমানের নীরবতার এই বৈপরীত্যই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে: এটি কি কৌশলগত নীরবতা, নাকি নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা? সময়ই এর চূড়ান্ত উত্তর দেবে।
লেখক: সম্পাদক, ইনফোবাংলা
