লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার চার যুবককে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠানোর পর সেখানে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ‘ভাড়াটে যোদ্ধা’ হিসেবে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী যুব সংগঠনের দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
নিখোঁজ চার যুবক হলেন নাজমুল হক সৌরভ, মেহেদী হাসান, আল আমিন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাদের পরিবার দাবি করেছে, জনপ্রতি প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে নিরাপদ চাকরির আশ্বাসে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়।
পরিবারগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে বৈধভাবে চাকরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছিল। পরে চলতি মাসের শুরুতে চার যুবক রাশিয়ায় যান। মস্কো পৌঁছানোর পর প্রথমে স্বাভাবিক যোগাযোগ থাকলেও পরে রুশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের পাসপোর্ট, ভিসা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এরপর থেকেই যুবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে অন্যের মোবাইল ফোন থেকে তারা দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানায় এবং নিজেদের জীবনঝুঁকির কথা বলে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কার্যালয়ে গিয়ে তারা আশ্বাস পেলেও কয়েক দিন পর অফিসটি তালাবদ্ধ দেখতে পান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে। একই সঙ্গে পাটগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত চার যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনুস আলী বলেন, যুবকেরা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে রাশিয়ায় গেছেন এবং সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সেই অর্থ মাহিন ইসলামের কাছে দিয়েছেন।
তবে মাহিন ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে তার কোনো সরাসরি যোগাযোগ ছিল না।
ঘটনার পর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী অভিযুক্ত দুই নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। পাটগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
