যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক ঘিরে আলোচ্যসূচি নিয়ে মতভেদ

অবশ্যই পরুন

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। তবে আলোচনা শুরুর আগেই আলোচ্যসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ সামনে এসেছে। ইরান চায় আলোচনা সীমিত থাকুক শুধু তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং মানবাধিকার ইস্যুসহ বিস্তৃত বিষয় আলোচনায় আনতে আগ্রহী।

বৈঠকের স্থান নিয়েও শুরুতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ইরান প্রথমে ইস্তাম্বুলে বৈঠক চাইলেও শেষ পর্যন্ত ওমানকে বৈঠকস্থল হিসেবে মেনে নেয় তেহরান। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সতর্ক করে বলেন, তার “খুবই চিন্তিত হওয়া উচিত।” একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কোনো চুক্তি না হলে পরিস্থিতি “ভয়াবহ” রূপ নিতে পারে।

ইরান আগেই স্পষ্ট করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে থাকবে। দেশটি কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনা মোতায়েন করেছে। একই সময়ে ড্রোন ভূপাতিত হওয়া এবং ট্যাঙ্কার জাহাজকে ঘিরে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও বাস্তবে আলোচনা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এই তিনটি বিষয় আলোচনাকে সবচেয়ে জটিল করে তুলছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ