বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে ডাভোসে দেওয়া বক্তব্যের পর নিজেকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে উল্লেখ করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ডাভোসে ভাষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অনেক সময় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একজন স্বৈরশাসকের প্রয়োজন হতে পারে।
নিজের ভাষণ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ডাভোসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দারুণ সাড়া পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই তাকে ভয়ংকর স্বৈরশাসক বলে আখ্যা দেয়, কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি নিজেকেই স্বৈরশাসক মনে করেন এবং কখনো কখনো এমন নেতৃত্ব দরকার হয়। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয় নয়, বরং সাধারণ বুদ্ধির ব্যাপার।
ডাভোসের ভাষণে ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গ তোলেন এবং কানাডা ও ইউরোপকে উদ্দেশ করে কঠোর মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গের জন্ম দেয়।
নিজেকে স্বৈরশাসকের সঙ্গে তুলনা করা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। এর আগেও তিনি অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন দমনে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে দাবি করেছিলেন, অনেক আমেরিকান একজন শক্ত হাতে নেতৃত্ব দেওয়া শাসক চান। যদিও পরে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি স্বৈরশাসক নন, বরং সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন নেতা
২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প বলেছিলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন তিনি স্বৈরশাসকের মতো কাজ করবেন যা সে সময়ও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কর্তৃত্ববাদী নেতাদের প্রতি প্রশংসামূলক মন্তব্যের জন্য আলোচিত। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সম্পর্কেও তিনি একাধিকবার প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়েছে।
ডাভোস বক্তব্যের আগে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, আপাতত সামরিক শক্তি বা শুল্ক ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তির সম্ভাবনার কথা তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনে সাময়িক স্বস্তি এলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক এবং ট্রান্সআটলান্টিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
