ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৭১ জনে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আলোচনায় এসেছে এক তরুণ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাবনা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামের এক বিক্ষোভকারীকে আজ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের একজন সদস্য।
তেহরানের উপকণ্ঠে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এরফানকে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গ্রেপ্তারের এক সপ্তাহের মধ্যেই তার বিচার, দোষী সাব্যস্ত করা এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী।
নরওয়েভিভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা জানায়, এরফানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বচ্ছ বিচার হয়নি এবং তাকে পর্যাপ্ত আইনি সহায়তার সুযোগও দেওয়া হয়নি। সংগঠনটির মতে, এটি চলমান আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে দ্রুত বিচার ও শাস্তির একটি নজির।
এমন অবস্থায় ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর না করতে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব শক্ত পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে ১৪ জানুয়ারি। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে ইরানে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করতে গিয়ে যদি গণহত্যা ও মৃত্যুদণ্ডের পথ বেছে নেওয়া হয়, তাহলে তার ফল ভালো হবে না ইরানের জন্য।
এখন প্রশ্ন উঠছে আজ যদি সত্যিই এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কি বাস্তবেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সেই উত্তরের দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
ন্যাশনিক্স/এলকে
