ইরানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। কোথাও কোথাও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের হাতে ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব জাতীয় পতাকাও দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei-এর পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক ঘোষণায় অভিভাবকদের সন্তানদের বিক্ষোভ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সহিংস পরিস্থিতিতে হতাহতের দায় সরকার নেবে না।
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, কেবল তেহরানের কয়েকটি হাসপাতালেই দুই শতাধিক মরদেহ আনার দাবি করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে জনঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা এখন রাজনৈতিক বিদ্রোহে রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে নজর রাখছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
