শহীদজননী জাহানারা ইমামের বই কেজি দরে বিক্রি করে খুব আলোচনায় এসেছে বাংলা একাডেমি। কেন এ কাজ করল তারা? এর জন্য জানতে হবে এর প্রধানের উত্থানের গল্প।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম নামধারী লোকটির প্রকৃত নাম গোলাম আজম। জন্ম ১৯৭৫ এ। ১৯৭৫ এ কোন সদ্যোজাত শিশুর নাম যে পরিবারে ‘গোলাম আজম’ রাখতে পারে, তারা কেমন পাকিস্তানপ্রেমী আর গোঁড়া ছিল একবার ভেবে দেখুন। পড়েছেন স্কুল আর মাদ্রাসায় মিলিয়ে মিশিয়ে। বাড়ি হাতিয়া। এলাকাটি ছিল মৌলবাদী অধ্যুষিত। হান্নান মাসউদও একই এলাকার মানুষ। দূর সম্পর্কের আত্মীয়ও।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গাঁজায় আসক্ত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত গাঁজা সেবনের জন্য গাঁজাজম বলত অনেকে। সুযোগ সন্ধানী এই লোক ঢাবিতে ভর্তি হয়ে কিভাবে রেজাল্ট ভালো করা যায় তাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। লক্ষ্যই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বাগিয়ে নেয়া। তাই মনন বিকাশের চেয়ে নোট মুখস্তে অধিক মনোযোগী হন। চেষ্টা করেছিল ড. আনিসুজ্জামান স্যারের অধীনে পিএইচডি করতে। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তার জন্য আনিসুজ্জামান স্যার তাকে প্রত্যাখ্যান করেন।
পট পট কথা বললেও অনগ্রসর অঞ্চল থেকে বেড়ে ওঠায় তার সাংস্কৃতিক বিকাশ হয়নি। উনার উচ্চারণে তা ধরা পড়ে। উনি সংস্কৃতিবান মানুষদের ঘৃণা করেন। সলিমুল্লাকে ফলো করে অন্যকে আক্রমণ করতে তিনি পছন্দ করেন। উনার স্ত্রী একটি সরকারি কলেজে চাকরি করেন। সে সূত্রে গালিবের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। একসময় সোহেল হাসান গালিব সিন্ডিকেটের মোড়ল হয়ে ওঠেন। পশ্চিমবঙ্গের সমান্তরাল আরেকটি বাংলা ভাষা নির্মাণ করতে গিয়ে বাংলাভাষাকে দূষিত করতে এরা বিশেষ অবদান রেখেছিল। এদেরই আরেক প্রডাক্ট হাসান রোবায়েত। আজ লালবদরদের প্রধান কবি। এরা কওমি মাদ্রাসা থেকে আসা লেখকদের মূলধারায় নিয়ে আসে। তারাই তাকে বিখ্যাত করেছে। গালিব সরকারি চাকুরির পাশাপাশি প্রথম আলোয় কাজ করত। তার মাধ্যমে প্রথম আলোর নিয়মিত লেখক হোন আজম। গালিবের পর সাহিত্য পাতার দায়িত্ব পায় আলতাফ শাহনেওয়াজ। সে মতিউর রহমান নিজামীর ভাগ্নী জামাই। তাই সেও গোলাম আজমকে মাথায় করে রাখে।
কামাল চৌধুরীর বিশেষ স্নেহধন্য ছিলেন এই আজম। শুধু আজম নয়, আওয়ামী আমলে পুরো সিন্ডিকেট অপরিমেয় সুযোগ সুবিধা নিয়েছে কামাল চৌধুরীর মাধ্যমে।
এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে এর বেশি কি আশা করতে পারি আমরা?
লিখেছেন: এন আলম।
লেখক ও গবেষক
