জুলাইযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ ল্যাপটপ বিতরণ থেকে সার ডিলারশিপ বণ্টন, জয়পুরহাটে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিজের দলের নেতাদেরই অস্বস্তিতে ফেলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। তাঁর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
ফয়সাল আলিমের অভিযোগ, ল্যাপটপ বিতরণে ভাগাভাগি হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন নেওয়া হয়েছে এবং নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, দলে এত নেতা-কর্মী থাকতে আত্মীয়স্বজনই কেন অগ্রাধিকার পেলেন?
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এসব অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলের কেউ নন, খোদ বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দলের ভেতরের অনিয়ম নিয়ে যখন নিজ দলের নেতাকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে হয়, তখন সাংগঠনিক জবাবদিহি কোথায়?
অবশ্য ফয়সাল আলিম দাবি করেছেন, তিনি দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের স্বার্থেই কথা বলেছেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন তাঁর পোস্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে জবাব দেওয়া সহজ, কিন্তু নিজের দলের অনিয়মের অভিযোগের জবাব দেওয়া কঠিন। জয়পুরহাটের এই ঘটনা যেন সেই পুরোনো প্রশ্নই সামনে আনছে: দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া আর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা কি একই বিষয়?
অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রমাণ। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই প্রকাশ্য বাদানুবাদ দলটির ভাবমূর্তি ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
