মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে ইশরাক, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

অবশ্যই পরুন

মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের অংশগ্রহণ ঘিরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ও নানা প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে পিস্তল হাতে কয়েকজনকে ‘এই, এই, দাঁড়া, দাঁড়া’ বলে থামার নির্দেশ দিতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিজের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘ইশরাকের অ্যাকশন’। ভিডিওটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, একজন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে অভিযানে অংশ নিতে পারেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হলেও অপরাধ দমনের নামে আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার সুযোগ কারও নেই। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব মূলত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। কোনো জনপ্রতিনিধি প্রশাসনের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিলেও তাতে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশি ক্ষমতা লাভ করেন না। একইভাবে, আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও তা ইচ্ছামতো অস্ত্র প্রদর্শন, কাউকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা অন্যের দিকে অস্ত্র তাক করার অবাধ অনুমতি দেয় না। পরিস্থিতি ও ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের আইনগত বৈধতা নির্ধারিত হবে।

প্রচারিত ভিডিওতে পিস্তল হাতে ইশরাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, অস্ত্রের লাইসেন্স, অভিযানে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভূমিকা এবং অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে তিনি আইনবহির্ভূতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন, কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন কিংবা বেআইনি আটক বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাহলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিতের প্রশ্নও উঠতে পারে।

ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে যে প্রশ্ন উঠছে, তা হলো—অপরাধ দমনের নামে একজন জনপ্রতিনিধি কি নিজেই আইন প্রয়োগকারীর ভূমিকা নিতে পারেন? মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কিন্তু সেই অভিযানও হতে হবে আইনসম্মত ও জবাবদিহিমূলক।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ