দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। দেশে বড় বড় সার কারখানা রয়েছে, রয়েছে সার আমদানি ও মজুতের ব্যবস্থাও। অথচ কৃষি মৌসুমে এসে মাঠপর্যায়ে সারের সংকটে পড়েছেন দেশের কৃষকেরা। প্রয়োজনের সময়ে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার পর্যাপ্ত সার সরবরাহের কথা বললেও বাস্তবে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে গিয়ে সেই চিত্র মিলছে না। কোথাও নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও আবার চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তীব্র অসন্তোষ।
কৃষকেরা বলছেন, সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়বে, অন্যদিকে কমে যেতে পারে কৃষি উৎপাদনও। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে বাজারে খাদ্যপণ্যের দামেও।
সার উৎপাদন ও মজুতের সক্ষমতা থাকার পরও যদি কৃষকের হাতে প্রয়োজনীয় সময়ে সার পৌঁছানো না যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠছে সরকারের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। গুদামে সার থাকার পরও মাঠে সংকট দেখা দিলে সেই ব্যর্থতার দায় কার—এ প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।
কৃষকেরা বলছেন, কৃষি উৎপাদন ঠিক রাখতে শুধু সার উৎপাদন করলেই হবে না; সেটি ন্যায্য দামে এবং সঠিক সময়ে কৃষকের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বর্তমানের সার সংকট ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উপকরণ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যপণ্যের বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদনকারী দেশে যদি কৃষককেই সারের জন্য হাহাকার করতে হয়, তাহলে সরকারের সার ব্যবস্থাপনার সাফল্য কোথায়? আজকের সার সংকট কি আগামী দিনের বড় খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস হয়ে উঠছে?
