মবের শিকার হাজার শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা-কার্যক্রম

অবশ্যই পরুন

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের শিকার হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া, অপসারিত বা কর্মস্থল থেকে বিতাড়িত সহস্রাধিক শিক্ষক এখনও নিজ কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি।


ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সংগঠন ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর দাবি, সারাদেশে প্রায় দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক হয়রানি, অপমান, জোরপূর্বক পদত্যাগ কিংবা কর্মস্থল থেকে বিতাড়নের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক আহত বা অসুস্থ হয়েছেন।


শিক্ষকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, কোথাও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল এবং কোথাও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করেন। অভিযোগের যথাযথ তদন্তের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।


ঢাকা জেলাতেই দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক পদত্যাগ, অপসারণ, বরখাস্ত কিংবা কর্মস্থলে বাধার মুখে পড়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দেশের সাত জেলার ৬৫টি স্কুল-কলেজের ৬৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ২১ জন কর্মস্থলে ফিরলেও ৪৫ জন এখনও ফিরতে পারেননি।


বগুড়ায় ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান মবের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন স্বপদে ফিরেছেন, তবে ১১ জন এখনও কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, মৌলভীবাজার, ঠাকুরগাঁও ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায়।


জোরপূর্বক পদত্যাগের কারণে অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতনও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেকে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে জোর করে প্রতিষ্ঠানপ্রধান সরানোর পর পছন্দের শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বা অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছরের ১৫ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত করতে হবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বেতন-ভাতা চালু রাখতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের কথাও বলা হয়।


এদিকে, জোরপূর্বক পদত্যাগের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক মামলায় জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের আইনি বৈধতা নেই উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।


শিক্ষাবিদরা বলছেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিয়মতান্ত্রিক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কোনো শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান বা পদত্যাগে বাধ্য করা শিক্ষাব্যবস্থার পরিবেশ ও শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ