সার সংকট: আতঙ্কে কৃষি কর্মকর্তারা, আসামি হয়ে ঘরছাড়া কুড়িগ্রামের ৫ গ্রামের কৃষক

অবশ্যই পরুন

কৃষি বিভাগের কাগজে-কলমে ‘সার সংকট নেই’—এমন দাবি থাকলেও বাস্তবে কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। সারের তীব্র হাহাকার, ডিলারের গুদাম থেকে সার লুট, সড়ক অবরোধ এবং কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে এখন থমথমে অবস্থা।

​দিনভর লাইনে দাঁড়িয়েও ডিলার পয়েন্টে মেলেনি চাহিদা অনুযায়ী সার। অথচ চড়া দামে খোলাবাজার বা খুচরা দোকানে ঠিকই মিলছে কাঙ্ক্ষিত সার। কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের একশ্রেণির কর্মকর্তা ও ডিলারদের যোগসাজশেই খোলাবাজারে সার কালোবাজারি হচ্ছে। এই ক্ষোভ থেকেই শুরু হয়েছে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মুখোমুখি অবস্থান।

​কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও আতঙ্কের রাজত্ব

​সার বিতরণ তদারকিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত কৃষকদের তোপের মুখে পড়ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। গত ৭ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নে সার বিতরণের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুল আলমের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা হলে পুলিশ আল আমিন ও সুরুজ মিয়া নামের দুই কৃষককে গ্রেপ্তার করে, যারা পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হন। তবে মামলার ভয়ে এখন অর্ধশতাধিক কৃষক বাড়িছাড়া।

​সবশেষ ঘটনা ঘটে ঘোগাদহ ইউনিয়নে, যেখানে সার বিতরণকালে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) মামুন অর রশিদ হামলার শিকার হন। এ ছাড়া নাগেশ্বরীর বল্লভেরখাস ও উলিপুরের বজরা ইউনিয়নে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা মুক্ত হন।

​বারবার ঘটে যাওয়া এসব হামলায় আতঙ্কে রয়েছেন মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিন জানান, প্রাণহানির শঙ্কা ও চরম আতঙ্ক নিয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

​সড়ক অবরোধ ও প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ

গতকাল ​মঙ্গলবার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর বাজারে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা কুড়িগ্রাম-চিলমারী আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী, উলিপুর ও রাজীবপুরে গুদাম থেকে সার লুটের পর সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে এক হাজার টন বাড়তি সার বরাদ্দ দিয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই মুখোমুখি ও বৈরী সম্পর্ক সার ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ