স্বামী তৌফীক নাওয়াজের দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তি প্যারলে পাচ্ছেন দীপু মনি

অবশ্যই পরুন

স্বামী তৌফীক নাওয়াজের দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন কারাবন্দি সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাকে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী তার প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার মেয়ে তানি দীপাবলী নাওয়াজ।

সেখানে তিনি প্যারোলে মুক্তির সময় এবং কত সময়ের জন্য আবেদন করা হবে তা নিয়ে মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে দীপু মনির প্যারোলে চার দিনের মুক্তির জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জমা দেন তানি।

দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বুধবার বিকালে বলেন, বুধবার দুপুরে দীপু মনির সঙ্গে পরামর্শ করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে।

প্যারোলের সময়সীমা সম্পর্কে ফয়সাল বলেন, তাকে বৃহস্পতিবারের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি প্যারোলে মুক্ত থাকবেন।

আইনজীবী জানান, সকাল ৬টায় কারাগার থেকে পুলিশ পাহারায় ডা. দীপু মনিকে নিয়ে যাওয়া হবে। প্যারোলের পুরো সময় তিনি পুলিশ পাহারায় থাকবেন। প্রথমে তিনি কলাবাগানের বাসায় যাবেন।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রয়াত তৌফীক নাওয়াজের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হবে। সেখানে ডা. দীপু মনি স্বামীর মরদেহ দেখবেন।

এরপর মরদেহ নেওয়া হবে গুলশান আজাদ মসজিদে। বাদ জোহর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দীপু মনিকে কারাগারে ফিরে যেতে হবে বলে জানান তার আইনজীবী।

তিনি আরও বলেন, আইনগতভাবেই এই প্যারোল পাওয়া গেছে। সরকার চাইলে এর চেয়ে বেশি সময়ের জন্যও প্যারোলে মুক্তি দিতে পারত।

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি চব্বিশের আন্দোলনের পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে আটক আছেন।

তার স্বামী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে মারা যান।

৭৬ বছর বয়সী তৌফীক নাওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসাসহ দেখভালের দায়িত্বে থাকা আপেল খকশি।

তিনি জানান, সোমবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তৌফীক নাওয়াজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ ধ্রুপদি সংগীতেরও চর্চা করতেন। ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। সর্বশেষ গত ২৭ মে হুইলচেয়ারে করে কারাবন্দি স্ত্রীকে দেখতে তাকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বজনেরা।

অপরদিকে দীপু মনি হাইকোর্টে বেশ কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও আরও অনেক মামলায় তার নাম থাকায় তিনি মুক্তি পাননি। ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা রয়েছে।

২৭ মে তৌফীক নাওয়াজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে দীপু মনিকে সাত দিন প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তাদের মেয়ে তানি দীপাবলী নাওয়াজ।

তবে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর করা ওই আবেদনে তখন আর সাড়া মেলেনি।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ