শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ বাদ, ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা—ফিরছে কি ‘নিয়োগ বাণিজ্য’?

অবশ্যই পরুন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন দেশের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি কেন্দ্রীয় ও তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে গেলে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, স্থানীয় পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা থাকলে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়, স্থানীয় রাজনীতি, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। এতে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে বলেও মনে করছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগ-বাণিজ্য ও অনিয়মের আশঙ্কাও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শিক্ষকরা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নন; তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর। তাই শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের দলীয়করণ বা স্থানীয় প্রভাব মেনে নেওয়া উচিত নয়। বরং মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও দাবি উঠেছে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হোক।

তাদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, প্রার্থীকে মূল্যায়নের একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত তার মেধা, যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থে সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ