বিশ্বকাপে ইরানের ক্ষোভ: ‘আয়োজকরা আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে’

অবশ্যই পরুন

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই ড্র করে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে ইরান। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে দলটি। ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি ও প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই অভিযোগ করেছেন, টুর্নামেন্টজুড়ে নানা সাংগঠনিক সমস্যার কারণে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

শুক্রবার রাতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ইরান। তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে তাদের শেষ ষোলোয় ওঠার সম্ভাবনা এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। ম্যাচ শেষে সিয়াটলের ড্রেসিংরুমে একটি আবেগঘন বার্তা লিখে রেখে যায় ইরান দল।

বার্তায় তারা জানায়, ইরান এমন একটি দেশ, যেখানে জয়ের চেয়েও সম্মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফুটবল তাদের কাছে কেবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং চরিত্র ও মর্যাদার প্রতীক। তারা আরও উল্লেখ করে, পয়েন্ট অর্জন করা সম্ভব হলেও সম্মান অর্জন সহজ নয়। একই সঙ্গে সিয়াটলের আতিথেয়তা এবং ইরানি সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে দলটি।

এর আগেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে একই ধরনের বার্তা রেখে গিয়েছিল ইরান।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অধিনায়ক মেহদি তারেমি বলেন, এটি তাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক একটি বিশ্বকাপ। তার দাবি, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিভিন্ন সমস্যার কথা জানানো হলেও ফিফা কার্যকর কোনো সমাধান দেয়নি। এমনকি নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো ড্রেসিংরুমে এসে আশ্বাস দিলেও গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ইরানের অভিযোগ, তাদের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। এতে খেলোয়াড়দের যাতায়াত, পুনর্বাসন (রিকভারি) এবং দৈনন্দিন প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

তারেমি বলেন, যেসব ব্যক্তি দলের লজিস্টিকস ও খেলোয়াড়দের পুনর্বাসনের দায়িত্বে ছিলেন, তারা অনুপস্থিত থাকায় দলকে প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিজুয়ানায় নিয়মিত যাতায়াতও পেশাদার টুর্নামেন্টের জন্য উপযুক্ত ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তারা মেক্সিকো ও তিজুয়ানার মানুষকে সম্মান করেন, তবে এমন আয়োজন আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। যদি তাদের বিদায়ই দিতে হতো, তাহলে সেটি খেলাধুলার ফলাফলের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত ছিল, সাংগঠনিক সমস্যার কারণে নয় বলেও মন্তব্য করেন ইরানের অধিনায়ক।

একই অভিযোগ করেন প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই। তিনি বলেন, আয়োজকদের আচরণে দলটি বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তাদের যদি দুই সপ্তাহ আগে আসার অনুমতি দেওয়া হতো, তাহলে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে নেওয়া সম্ভব হতো। ভবিষ্যতে কোনো দলের সঙ্গে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ