ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান সুমনের মালিকানাধীন একটি কারখানায় সশস্ত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশধারী একদল ব্যক্তি দুই নৈশ প্রহরীকে জিম্মি ও বেঁধে রেখে কারখানার মূল্যবান স্টিল ও লোহার সরঞ্জাম একটি মিনি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে পৌরসভার রহমতগঞ্জ মহল্লায় অবস্থিত ‘স্পার্ক ভিশন’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান সুমন আত্মগোপনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী ইমন মিয়া জানান, তার বাবা সুরুজ মিয়া ও আবদুল মালেক নিয়মিত কারখানাটির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। তবে অসুস্থতার কারণে শুক্রবার বাবার পরিবর্তে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। তার ডিউটি ছিল সন্ধ্যা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত।
ইমনের দাবি, রাত প্রায় ৯টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে কারখানার গেটের সামনে এসে ডাকাডাকি শুরু করেন। তিনি অন্য প্রহরী আবদুল মালেককে ডাকতে গেলে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে তাকে জিম্মি করে। পরে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। কিছুক্ষণ পর আবদুল মালেক বাইরে এলে তাকেও একইভাবে বেঁধে রাখা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ওই ব্যক্তিরা কারখানার মূল ফটক খুলে একটি মিনি ট্রাক ভেতরে প্রবেশ করায় এবং কারখানার বিভিন্ন মূল্যবান স্টিল ও লোহার সরঞ্জাম ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। কাজ শেষ হওয়ার পর তারা দুই প্রহরীর বাঁধন খুলে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে প্রহরীরা স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।
ঘটনার বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে মাহমুদ হাসান সুমন কারখানায় লুটপাটের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার তারেক মাহবুব বাবুকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আজম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
