বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ১০ লাখের বেশি মানুষ, মাথাপিছু নগদ বরাদ্দ মাত্র ২৮ টাকা

অবশ্যই পরুন

​দেশের সাতটি জেলায় টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সাথে পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। তবে বিপুলসংখ্যক এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারের ত্রাণ বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​বরাদ্দ বনাম বাস্তবতা: ভাগে মিলছে সামান্য চাল ও টাকা

​গত ছয় দিনে (৭ থেকে ১২ জুলাই) সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই সরকারি হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

​ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ: মাত্র ২৮ টাকা।

​পরিবারপ্রতি নগদ বরাদ্দ: প্রায় ১০৬ টাকা।

​ব্যক্তিপ্রতি চালের পরিমাণ: মাত্র ৩.২ কেজি।

​সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার

​উপকূলীয় ও পাহাড়ি জেলাগুলোতে বন্যার রূপ সবচেয়ে ভয়াবহ। বন্যায় এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।

​চট্টগ্রাম: জেলায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। মোট ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।

​কক্সবাজার: স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন। এখানে সর্বোচ্চ ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

​অন্যান্য জেলা: এছাড়া বান্দরবানে ১২,৫০০, মৌলভীবাজারে ৭,৩০৮, হবিগঞ্জে ৬,৪৪৪, রাঙামাটিতে ১,০৪৪ এবং খাগড়াছড়িতে ১,০৭৩টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

​আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা

​মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে দুর্গত এলাকার ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভায় চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও (NGO) কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সামনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

​বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ একেবারেই সীমিত। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসন সহায়তা বাড়ানো না হলে মানবিক বিপর্যয় আরও প্রকট হতে পারে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ