২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর সরকারের নৃশংসতার প্রতিবাদে দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এসব বিক্ষোভের অংশ হিসেবে আবুধাবিতে গ্রেফতার হন আব্দুল হামিদ নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাসিন্দা এবং আবুধাবি সিটিতে হাউজিং ব্যবসা করতেন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল হামিদ দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় কারাগারে বন্দী থাকার পর ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আল সদর কারাগারে মারা যান। তার স্ত্রী কোহিনুর জানান, আব্দুল হামিদের বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না; কেবলমাত্র ডায়াবেটিস ও রক্তচাপের সমস্যা ছিল। তাই পরিবার সন্দিহান, কারাগারে নির্যাতন বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের রেজা নামের এক কর্মকর্তা প্রথমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃত্যুর সংবাদ দেন। তবে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বিষয়ে যথাযথ তথ্য দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া শাখার পরিচালক মোস্তফা জামিল খান জানিয়েছেন, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আব্দুল হামিদ স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন এবং হাসপাতালে মারা যান।
প্রসঙ্গত, জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার কর্তৃক ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নৃশংসতার প্রতিবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই শতাধিক বাংলাদেশি গ্রেফতার হন। অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকার বিশেষ অনুরোধে অনেক গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশিকে বিভিন্ন সময়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ২৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি কারাগারে রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, যাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পাশাপাশি অন্য কোনো অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় রাখা হয়নি, তাই তারা এখনও মুক্তি পাচ্ছেন না।
