সেন্টমার্টিনের সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল আজিজ আসলে রোহিঙ্গা নাগরিক এমন তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও সরকারি নথি অনুযায়ী, আজিজ একদিকে সেন্টমার্টিন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কর্মী, অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে তদন্তে জানা যায়, তার আসল পরিচয় ভিন্ন। আজিজ মূলত মিয়ানমারের নাগরিক মো. আব্দুলের ছেলে। ১৯৯২ সালে তার বাবা মা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। পরবর্তীতে স্থানীয় দালালচক্রের সহায়তায় আজিজ জাল কাগজে এনআইডি তৈরি করে বাংলাদেশি পরিচয় নেন এবং সরকারি চাকরিও পান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্র জানায়, সাবেক এক ইউপি সদস্যের সহায়তায় তিনি এনআইডি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সরকারি পদবির আড়ালে রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন রেখে দ্বীপে কাজ করে যাচ্ছেন আজিজ।
এফএক্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বসন্ত দে জানান, রাস্তা নির্মাণের সময় পরিবেশ দপ্তরের কর্মী পরিচয় দিয়ে আজিজ তাদের কাছে সিমেন্ট ও বালু দাবি করেন এবং হুমকিও দেন।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ২০২২ সালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও অল্প সময় পরই তিনি আবার একই দপ্তরে কাজে যোগ দেন যা সরকারি বিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে টেকনাফের ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “ভুল তথ্য দিয়ে এনআইডি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, “আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেন, “রোহিঙ্গা পরিচয়ে এনআইডি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ দুটোই গুরুতর। যথাযথ তদন্ত চলছে।
