ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে একটি সক্রিয় মোটরসাইকেল চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
শুক্রবার (১৫ মে) ভোরে গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক মিয়া (২৭), শাহবাজপুর গ্রামের সোহেল মিয়া (২৩) এবং ‘ফ্রিডম মানিক’ নামে পরিচিত মানিক চৌধুরী (৩৯)।
শুক্রবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পিবিআই জানায়, গত ২৯ এপ্রিল ময়মনসিংহ নগরীর হেরা মার্কেট এলাকার সামনে থেকে আলামিন শরীফ সিফাত নামে এক ব্যক্তির সুজুকি মোটরসাইকেল চুরি হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে গৌরীপুর এলাকা থেকে ২৯ মামলার পলাতক আসামি ‘ফ্রিডম মানিক’কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে পালামন্দার গ্রামে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে আশিক মিয়াকে একটি নীল রঙের চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেত্রকোণা-ল ১১-১৩৪৭ বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ছাড়া মোটরসাইকেলের রং পরিবর্তন এবং চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং চক্রের সদস্যদের শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
