হামের সঙ্গে ২২ দিনের যুদ্ধ শেষে থেমে গেল ছোট্ট সাফওয়ানের জীবন

অবশ্যই পরুন

দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চার মাস বয়সী শিশু আবদুল্লাহ আল সাফওয়ান ২২ দিনের চিকিৎসা শেষে মারা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দেড় বছর আগে বিয়ে হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস ও আবদুল্লাহ মো. রাসেলের সংসারে চার মাস আগে জন্ম নেয় সাফওয়ান। সীমিত আয়ের পরিবার হলেও সন্তানকে ঘিরে ছিল অনেক স্বপ্ন ও আনন্দ। শিশুর প্রতিটি মুহূর্ত স্মার্টফোনে ধারণ করতেন মা।

জানা গেছে, ২২ দিন আগে সাফওয়ানের জ্বর ও কাশি শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে ১৯ এপ্রিল তাকে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক হামের লক্ষণ শনাক্ত করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পরিবারটি প্রথমে সরকারি হাসপাতালে যায়। পরে ধারদেনা করে আবার বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

২১ এপ্রিল গভীর রাতে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন পর আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারটি বিভিন্নজনের কাছে সাহায্য চায় এবং প্রায় ৮০ হাজার টাকা ধার করে।

শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৪ মাস ১০ দিন বয়সী সাফওয়ান। পরে এশার নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

সন্তান হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, তার শিশুর হাসিমাখা মুখ কোনোদিন ভুলতে পারবেন না। ভবিষ্যতে বড় হলে দেখানোর জন্য ছেলের ভিডিও ধারণ করে রাখতেন বলেও জানান তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৯ এপ্রিল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৩৩ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৩০ জন নগরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন। জেলায় এখন পর্যন্ত ১০৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৫৫ জন।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ