ইউনুস-জামাত জোট ও বিএনপির নীতিগত ব্যর্থতায় দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

অবশ্যই পরুন

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যেখানে বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণা সংস্থা Power and Participation Research Centre (PPRC)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে এবং যদি মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) আরও ১০ শতাংশ হ্রাস পায়, তাহলে এই সংখ্যা প্রায় ১২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

গত এক দশকে দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। শেখ হাসিনার সময়কালে ২০১০ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ১২.২%, যা ২০২৩ সালে প্রায় ৫%-এ নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই হার আবার বেড়ে প্রায় ৯.৩৫%-এ দাঁড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে World Bank-এর ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে অর্জিত অগ্রগতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোর মধ্যে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তি এই খাতের ওপর নির্ভরশীল হলেও জিডিপিতে এর অবদান প্রায় ১১ শতাংশে নেমে এসেছে এবং প্রবৃদ্ধি ৩.২১ শতাংশ থেকে কমে ১.৭৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ভর্তুকি হ্রাস, সার ও সেচ সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে কৃষকদের আয় কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

শিল্প খাতেও একই ধরনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিল্প প্রবৃদ্ধি ৯.৮৬ শতাংশ থেকে কমে ৬.৬৬ শতাংশে নেমে এসেছে এবং তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ২০২৪ সালের ৭.২৩ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে মাত্র ০.৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট, যেখানে পোশাক খাতে ২০–৩০ শতাংশ, ইস্পাত শিল্পে ২৫–৩০ শতাংশ, সিরামিক শিল্পে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং টেক্সটাইল মিলে ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন হ্রাসের তথ্য উঠে এসেছে।

জ্বালানি খাতের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে, ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়ে ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, লোডশেডিং এবং অব্যবহৃত বিদ্যুৎ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ ক্যাপাসিটি পেমেন্ট এসব বিষয় উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শিল্প কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে একসময় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬.৫ শতাংশ ছিল, তা বর্তমানে প্রায় ৩.৫ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও কমে ২.৫ থেকে ২.৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৩ শতাংশ সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান, আয় এবং ভোগ ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, কৃষি, শিল্প ও জ্বালানি এই তিনটি প্রধান খাত একযোগে চাপের মুখে থাকায় দেশের অর্থনীতি একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন হ্রাস, ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ