প্রথম স্ত্রীর অমতে দ্বিতীয় বিয়ে, সমালোচনার মুখে শিশু বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী

অবশ্যই পরুন

বাংলাদেশের আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্তকে “গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়” হিসেবে তুলে ধরায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, সমাজে অনেক বিবাহিত ব্যক্তি গোপনে “হারাম সম্পর্কে” জড়িয়ে পড়লেও তিনি সেই পথে না গিয়ে “হালালের মধ্যে থাকার জন্য” দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত তার প্রথম স্ত্রীর জন্য কষ্টের কারণ হলেও এটি “আল্লাহর বিধান” বলেই তিনি তা মেনে নিয়েছেন।

তবে তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে ধর্মীয় যুক্তি দিয়ে বৈধতা দেওয়ার এই প্রবণতা সমাজে ভুল বার্তা দিচ্ছে কিনা। সমালোচকদের দাবি, “গুনাহ থেকে বাঁচার” যুক্তি দেখিয়ে দ্বিতীয় বিয়েকে স্বাভাবিক করা আসলে নারীর প্রতি অবিচারকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।

বিশেষ করে নারী অধিকারকর্মীরা বিষয়টিকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, প্রথম স্ত্রীর মানসিক কষ্টকে উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় আড়ালে ন্যায়সঙ্গত বলা যায় না। তাদের মতে, ইসলাম ইনসাফের কথা বললেও বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে তা বজায় থাকে না।

অন্যদিকে, মাদানীর সমর্থকরা বলছেন, তিনি কেবল ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করেছেন এবং শরীয়তসম্মত অধিকার প্রয়োগ করেছেন। তাদের মতে, বহুবিবাহ ইসলামে অনুমোদিত এবং সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষের তর্ক-বিতর্ক ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে দেখলেও, আবার অনেকে বলছেন—এ ধরনের বক্তব্য জনসম্মুখে প্রচার করলে তা সামাজিক প্রভাব ফেলতেই পারে।

সব মিলিয়ে, মাওলানা মাদানীর এই পোস্ট নতুন করে ধর্ম, সমাজ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমারেখা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ