চীনের ‘রেড সিগন্যাল’ ও তারেক রহমানের নতজানু কূটনীতি: চরম খেসারতের মুখে বাংলাদেশ!
সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর একটি নিবন্ধ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও নতজানু নীতির নগ্ন চিত্র আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে। একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ যে মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন ‘ভারসাম্যের কূটনীতি’ বজায় রেখেছিল, বিএনপি আজ শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
চীনের দেওয়া এই ‘রেড সিগন্যাল’ স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার পশ্চিমাদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ তোষামোদে লিপ্ত। বিগত দিনে আওয়ামী লীগ সরকার যখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু কিংবা চীনের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেছিল, তখন কোনো পরাশক্তির কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এমন কিছু অসম প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত চুক্তি বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যা আমাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার চীনকে সরাসরি ক্ষুব্ধ করেছে।
বাস্তবতা হলো, আমাদের সামরিক বাহিনীর একটি বড় অংশ চীনা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল। অথচ, বিএনপি সরকার মার্কিন প্রীতি দেখাতে গিয়ে এমন সব শর্ত মেনে নিচ্ছে বা নেওয়ার পাঁয়তারা করছে, যার ফলে ভবিষ্যতে চীন থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তারেক রহমানের বেইজিং সফরের ঠিক আগে, সরকারি ছুটির দিনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তড়িঘড়ি বৈঠক প্রমাণ করে যে, এই সরকার ওয়াশিংটনের প্রেসক্রিপশনের বাইরে এক পা-ও ফেলতে সক্ষম নয়।
বিএনপির এই অপরিণামদর্শী ও মেরুদণ্ডহীন পররাষ্ট্রনীতির কারণে আজ দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলো যেমন হুমকির মুখে, তেমনি সামগ্রিক অর্থনীতিও বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন। পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে দেশকে বলির পাঁঠা বানানোর এই খেলা থেকে বর্তমান সরকারকে এখনই সরে আসতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার যে আত্মঘাতী পথে বিএনপি হাঁটছে, তার চরম খেসারত গোটা জাতিকে দিতে হতে পারে। বিদেশি শক্তির দালালি নয়, বরং দেশরত্ন শেখ হাসিনার আমলের মতো একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও মেরুদণ্ডসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতিই কেবল পারে বাংলাদেশকে বর্তমানের এই বহুমুখী সংকট থেকে রক্ষা করতে।
লেখক : এম এ আহাদ চৌধুরী রায়হান, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
