জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে দলটির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে “ন্যাক্কারজনক অধ্যায়” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সংসদ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, এই পদক্ষেপ কেবল একটি দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত। তারা আরও অভিযোগ করে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
দলটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করে, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের শক্তি জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। দমন-পীড়ন বা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে একটি জনপ্রিয় দলকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়; বরং এতে সমাজে অস্থিরতা ও বিভাজন বাড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে দলটি গণতন্ত্রকামী জনগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের প্রতি গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে আওয়ামী লীগ জানায়, তারা আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে এবং জনগণ ও গণতন্ত্রের বিজয়ে বিশ্বাসী। “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগানে বিবৃতি শেষ করা হয়।
ন্যাশনিক্স/এএএইচপি
