ব্যবসায়ীদের টুঁটি চেপে ধরার নিষ্ঠুরতা—দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে
দেশের অর্থনীতি আজ চরম অনিশ্চয়তায়। একদিকে ব্যবসায়ীদের বলা হচ্ছে ‘অর্থনীতির নায়ক’, অন্যদিকে তাঁদের বিরুদ্ধে চলছে মামলা, হয়রানি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, মববাজি—এক ধরনের দমননীতি যা ব্যবসা-বাণিজ্যকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
পান-সুপারি, সুই-সুতা থেকে শুরু করে জাহাজ, গার্মেন্টস, রড-সিমেন্ট, আবাসন—প্রায় প্রতিটি খাতে উদ্যোক্তারা বাধার সম্মুখীন। নতুন বিনিয়োগ থমকে গেছে, আগের লগ্নিও ঝুঁকিতে। এক বছর ধরে নতুন কর্মসংস্থান কমে গেছে, ছাঁটাই বেড়েছে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তরুণ প্রজন্মের চাকরির বাজার স্থবির, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ—শ্রীলঙ্কা বা নেপাল—অর্থনৈতিক সংকটে পড়লেও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ ছিলেন। সেখানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, মববাজি বা দমননীতি দেখা যায়নি। নতুন সরকার উদ্যোক্তাদের সহায়তায় অর্থনীতি গতিশীল করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটছে উল্টোটা—ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার, প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা, যা দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো আস্থা। উদ্যোক্তারা নিরাপদ বোধ না করলে বিনিয়োগ কমে যায়, উৎপাদন ও রপ্তানি থেমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান প্রভাবিত হয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য সংকট।
দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে এখনই প্রয়োজন:
ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা,
স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন,
বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
নতুন প্রকল্প ও উৎপাদন সম্প্রসারণে সহায়তা বৃদ্ধি।
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা ছাড়া নতুন বিনিয়োগ থেমে যাবে, কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে না। দেশের অর্থনীতির প্রাণ—উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা ও আস্থা—বিনা, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও সংকটে পড়বে।
এক কথায়, ব্যবসায়ীদের ‘টুঁটি চেপে ধরার’ এই নীতি বন্ধ করতে হবে। না হলে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, পুরো অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এখনই সময় উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর, বিনিয়োগ বাড়ানোর এবং দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার।
