খোমেনি হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সমালোচনা

অবশ্যই পরুন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–কে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া বাংলাদেশের সরকারি বিবৃতি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ সরকার নৈতিক সাহস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশের বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ইরান–এর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলো না কেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি কেবল ভাষাগত কূটনীতি নয়, বরং একটি ‘সতর্কভাবে এড়িয়ে যাওয়া’ অবস্থান। তাদের দাবি, বিশ্বশান্তির কথা বলতে হলে সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সমান নীতি থাকতে হবে। বাছাই করে নিন্দা জানানো কূটনৈতিক ভারসাম্য নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধাবাদ।

সমালোচকদের বক্তব্য, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার নীতি অনুসরণ করার কথা বলে আসছে। সেই নীতির সঙ্গে বর্তমান বিবৃতির ভাষা সাংঘর্ষিক বলেই তারা মনে করছেন।

একাধিক নাগরিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ কি বিশ্বশান্তির নামে এমন শক্তির পাশে দাঁড়াচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে? নাকি সরকার আঞ্চলিক শক্তির চাপে কৌশলী নীরবতা বেছে নিয়েছে?

এ ঘটনায় সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে। সমালোচকদের ভাষায়, “নৈতিকতা যদি নির্বাচিত হয়, তবে তা আর নৈতিকতা থাকে না তা হয়ে যায় কৌশলী রাজনীতি।”

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান কী এ প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ