মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে জরুরি চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আফিয়া খাতুন নামের শিশুটিকে তার মামাবাড়ি থেকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কীটনাশক পান করায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা দেওয়া হয়।
তবে প্রায় ২০ মিনিট যাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সচালক রোগীর স্বজনদের জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন ব্যক্তিগত জরুরি কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করবেন। এ কারণে রোগী ও তার স্বজনদের মাঝপথে নেমে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ। পরে তারা ইজিবাইকে করে সদর হাসপাতালে পৌঁছান।
শিশুটির স্বজনদের দাবি, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনের জন্যই নির্ধারিত। মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ায় শিশুটির চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হয়েছে। তারা এ ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, সদর হাসপাতাল খুব বেশি দূরে নয় বলে বিকল্প ব্যবস্থায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তার সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালেক মূহিদ জানিয়েছেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে অ্যাম্বুলেন্স যেন কেবল রোগী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির বলেন, অসুস্থ শিশুকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্টরা জানান, মাগুরা সদর হাসপাতাল শ্রীপুর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। ইজিবাইকে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে, যা জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ন্যাশনিক্স/এমসি
