ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেওয়া যাবে তবে গোপন কক্ষের ছবি তোলা নিষিদ্ধ: ইসি

অবশ্যই পরুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার, প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ভোট প্রদানের গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নেওয়া বা কোনো ধরনের ছবি তোলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

ইসি সচিব বলেন, ভোটার, প্রার্থী ও এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট জায়গায় ছবি তোলার সুযোগও থাকবে। তবে কোনো অবস্থাতেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ বা ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে আখতার আহমেদ জানান, আজ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা কমিশনে এসেছিলেন। তাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল এবং কমিশনের বক্তব্য লিখিতভাবে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। মোবাইল ব্যবহারে যেসব বিধিনিষেধ থাকবে, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত থাকছেন। মোট ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক ইতোমধ্যে এসেছেন। এছাড়া ৬০ জন আমন্ত্রিত অতিথিও রয়েছেন।

তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও জর্জিয়া থেকে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা আসছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আল জাজিরা, রয়টার্স, ডয়চে ভেলে, এপি এবং পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা নির্বাচন কাভার করবেন।

সংস্থাভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২২৩ জন, কমনওয়েলথের ২৫ জন এবং আইআরআইয়ের ১২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

ব্যালট পেপার সংশোধনের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ফরিদপুর-১ ও বরগুনা আসনের ব্যালটে কিছু ত্রুটি পাওয়া গিয়েছিল, যা ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। তিনি জানান, কমিশন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী অবস্থানে রয়েছে এবং আগামীকাল সকাল থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারণাও কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে।

নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। তবে দুটি প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় মিছিল-সমাবেশে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকাই স্বাভাবিক, তবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো শালীনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, ফলাফল পেতে অযথা বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। ব্যালট গণনায় যে সময় লাগে, সেটাকে দেরি বলা যাবে না। নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।

ন্যাশনিক্স/এএএইচপি

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ