নির্বাচনের আগে ৪৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি, বিমান আসবে ২০৩১-এর পর

অবশ্যই পরুন

ওয়াশিংটন ডিসিতে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে এই চুক্তি হওয়ায় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চুক্তির মূল অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর জন্য ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব উড়োজাহাজের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বিমানগুলো সরবরাহ করবে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং।

চুক্তি অনুযায়ী বহরে যুক্ত হবে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিনের বহর সংকট কাটাতে এবং পতাকাবাহী এয়ারলাইনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই এই ক্রয় জরুরি।

তবে অর্থনীতিবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এই চুক্তিকে নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বড় অঙ্কের রাষ্ট্রীয় দায় তৈরি করে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা আইন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এই চুক্তির অর্থায়নে সরকার নিজেই ঋণের গ্যারান্টি দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বিমান কর্তৃপক্ষ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দায় সরাসরি জাতীয় কোষাগারের ওপর পড়বে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে বিমানের ঋণ-ইকুইটি অনুপাত শিল্পমানের তুলনায় অনেক বেশি, যা নতুন ঋণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি রপ্তানির ওপর উচ্চ শুল্কের হুমকি মোকাবিলায় বড় অঙ্কের মার্কিন পণ্য আমদানিকে কূটনৈতিক সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মত রয়েছে।

নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রশ্ন উঠেছে। চুক্তির আওতায় থাকা ৭৩৭ ম্যাক্স মডেল নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক দুর্ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায় এসব উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই চুক্তির আর্থিক দায় বর্তমান সরকারের মেয়াদে কার্যকর হলেও উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হবে সম্ভাব্যভাবে ২০৩১ সালের অক্টোবরের পর। অর্থাৎ অর্থনৈতিক দায় বহন করবে পরবর্তী সরকার, কিন্তু চুক্তির সুফল ভোগ করবে আরও পরে।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ