দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার পর মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া (৭০) মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।
স্বজন ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে আবেদনটি গ্রহণ করা হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে নিয়ে গিয়ে মিলনকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
মিলনের চাচা মতিউর রহমান বলেন, কারাগারের ফটকে বাবার মরদেহ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, মিলনের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিলন একজন আওয়ামী লীগ কর্মী এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা একটি মামলায় ভৈরব থানা-পুলিশ মিলনকে গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় জামিন পেলেও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া বলেন, মিলনের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন করে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা আইনের অপব্যবহার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনার ভিত্তিতেই কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
