দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বাংলাদেশকে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশনা দিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের দাবি ছিল ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। সে তুলনায় প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ কম হলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি। রায়ের বিভিন্ন দিক আইনজীবীদের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোকে। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়ম শুরু হয়।
পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি ও অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে দেশকে গ্যাস সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।
এই ঘটনায় দায় নিরূপণ ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রশ্নে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়। জাতীয় সম্পদের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০১০ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলায় বাংলাদেশ পক্ষ থেকে নাইকোর অবহেলা, চুক্তি লঙ্ঘন এবং ত্রুটিপূর্ণ খনন কার্যক্রমের তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি লড়াই শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ে নাইকোর দায় স্বীকার করে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
দাবিকৃত অর্থের পুরোটা না মিললেও আন্তর্জাতিক আদালতে দায় প্রমাণ করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের এই রায়কে আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
