শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ড এবং নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের হেনস্তার ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রাজধানীর কদমতলীতে জামায়াতের নারী নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। একই দিনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করে। এতে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
এর আগে বুধবার শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। জামায়াতের দাবি, ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। একই দিনে রাজধানীর কদমতলীতে ঢাকা ৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া জামায়াত কর্মী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবিকে দুর্বৃত্তরা মাথায় আঘাত করে আহত করে।
জামায়াতের অভিযোগ, নারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হেনস্তার অংশ হিসেবেই এসব হামলার ঘটনা ঘটছে। তারা এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শেরপুর ৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের উসকানি ও সরাসরি নির্দেশে রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তার দাবি, বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সংঘর্ষের সময় কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এভাবে চলতে থাকলে সুষ্ঠু ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ থাকবে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।
ঘটনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরে জামায়াত জানায়, ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপির উসকানিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে ঝিনাইগাতী বাজারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও কর্মীদের চলাচলে বাধা দেয়। পুলিশ রাস্তা ছাড়ার অনুরোধ জানালেও তা মানা হয়নি। একপর্যায়ে হামলার শিকার হন রেজাউল করিম।
জামায়াতের নেতারা বলেন, শুরুতেই পুলিশ সক্রিয় হলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। পরে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নির্ধারণের দাবি জানান।
এদিকে বৃহস্পতিবার কদমতলীতে মহিলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ নারী অংশ নেন। সমাবেশে নেতারা বলেন, নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীর ওপর হামলা নারীর প্রতি সহিংসতার শামিল এবং এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতের নেতারা বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসের জবাব জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দেবে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
